নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বাংলার দেশীয় সুগন্ধি ধানের মধ্যে অন্যতম পরিচিত নাম তুলাইপাঞ্জি। উত্তরবঙ্গের কৃষি ও খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে এই বিশেষ ধান। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলায় তুলাইপাঞ্জির চাষ সবচেয়ে বেশি হলেও উত্তরবঙ্গের আরও বেশ কিছু এলাকায় কৃষকরা এই সুগন্ধি ধানের চাষ করে থাকেন।
তুলাইপাঞ্জি চালের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর স্বতন্ত্র সুগন্ধ ও স্বাদ। এই ধরনের দেশীয় সুগন্ধি ধানের গুণমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার মাটি, জলবায়ু ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই নির্দিষ্ট অঞ্চলের তুলাইপাঞ্জি চাল তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।
সাধারণত খরিফ মরসুমে, অর্থাৎ আষাঢ় থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্যে তুলাইপাঞ্জি ধানের বপন করা হয়। এরপর নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ ধান কাটার সময় আসে। এই ধান জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতি পাওয়ায় এর নির্দিষ্ট ভৌগোলিক উৎস ও স্বাতন্ত্র্য সরকারি স্বীকৃতিও পেয়েছে।
তবে তুলাইপাঞ্জি চাষে রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জও। এই ধানের গাছ তুলনামূলকভাবে লম্বা হওয়ায় শিষে ধান আসার পর অনেক সময় গাছের নিচের অংশ বেঁকে গিয়ে জমিতে লুটিয়ে পড়ে। ফলে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উপযুক্ত সময়ে জমির পরিচর্যা ও কৃষি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চাষের এই সমস্যাগুলি সত্ত্বেও উত্তরবঙ্গের বহু কৃষক এখনও ঐতিহ্যবাহী এই ধানের চাষ করে চলেছেন। তুলাইপাঞ্জি চালের বিশেষ সুগন্ধ ও স্বাদের কারণে সাধারণ চালের তুলনায় বাজারে এর চাহিদা এবং দামও তুলনামূলকভাবে বেশি।
দেশীয় এই সুগন্ধি ধানকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ যেমন রয়েছে, তেমনই এর বাজারমূল্যও কৃষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার এলাকায় তুলাইপাঞ্জি ধানের চাষ হয় কি? উত্তরবঙ্গের কোথায় কোথায় এই ঐতিহ্যবাহী ধানের চাষ হচ্ছে, তা কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।