Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
বিয়ের আগে বিশেষ আয়োজন! প্রথমবার হবু বরের সঙ্গে যুগলে আইবুড়ো ভাত খেলেন অভিনেত্রী শ্রুতি, বিয়ের প্রস্তুতি ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল   •   পার্ক সার্কাস ও এন্টালির ৬৫ ও ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে জল জমা ও নিকাশি সমস্যা পরিদর্শনে অগ্নিমিত্রা পল, সরকারি ড্রেন দখল ও বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ   •   বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ, পরিবারকে নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর স্নেহ ও আন্তরিকতায় আপ্লুত ক্রিকেট তারকা   •   SUDA-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, নগর পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নে একাধিক বিষয়ে আলোচনা   •   ৬৮ পল্লী সর্বজনীন কালীপুজোর শুভ উদ্বোধনে নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ   •   কালীপুজোয় বৃষ্টির ভ্রুকুটি নেই, পরিষ্কার আকাশেই উৎসবের আনন্দে মাতবে বাংলা! ভোরে নামতে পারে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রিতে

 দিল্লির কূটনীতির মঞ্চে ভারতের নতুন সমীকরণ

12 Sep 2026
06:26 PM

 

 

সম্পাদকের কলমে : কূটনীতি কখনও শুধু করমর্দনের ছবি নয়। একটি আলিঙ্গনের পেছনে থাকে বহু বছরের সম্পর্ক, একটি বৈঠকের পেছনে থাকে অসংখ্য হিসাব-নিকাশ, আর একটি যৌথ ঘোষণার পেছনে থাকে ভবিষ্যৎ বিশ্বের সম্ভাব্য রূপরেখা। দিল্লিতে BRICS সম্মেলনকে ঘিরে গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ যেন সেই বাস্তবতাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উষ্ণ অভ্যর্থনা ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার প্রতীক। প্রতিরক্ষা থেকে জ্বালানি, শিল্প থেকে মহাকাশ—দুই দেশের সম্পর্ক যে শুধু একটি ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সেই বার্তাই উঠে এসেছে আলোচনায়। সুখোই-৫৭-এর মতো প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাবনা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের প্রসারও ভবিষ্যতের সম্পর্কের দিক নির্ধারণ করতে পারে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—সংঘাতের বদলে কূটনীতি। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে ভারত যে নিজের স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপদ বাণিজ্যপথের গুরুত্বকেও সামনে রাখছে, তা স্পষ্ট।

তবে এবারের BRICS-এর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত নিঃসন্দেহে শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফর। গালওয়ান-পরবর্তী টানাপোড়েনের আবহে ভারত ও চিনের শীর্ষ নেতৃত্বের মুখোমুখি বৈঠক নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের পূর্বশর্ত—ভারতের এই অবস্থানও পরিষ্কার।

এখানেই দিল্লির কূটনীতির আসল পরীক্ষা। চিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করা মানে সীমান্তের প্রশ্নকে ভুলে যাওয়া নয়। আবার সীমান্তে মতপার্থক্য থাকলেই বাণিজ্য, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা কিংবা বৈশ্বিক স্বার্থের অন্যান্য ক্ষেত্র বন্ধ করে দেওয়াও বাস্তবসম্মত নয়। ভারতের সামনে তাই ভারসাম্যের কঠিন পথ—প্রতিযোগিতা থাকবে, মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু যোগাযোগের দরজাও খোলা থাকবে।

একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিশর, ইথিওপিয়া-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ভারতের ধারাবাহিক বৈঠক আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে—ভারত এখন কেবল কোনও একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর অংশ হয়ে থাকতে চাইছে না; বরং একাধিক শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের কৌশলগত পরিসর বাড়াতে চাইছে।

BRICS-এর ঐকমত্যভিত্তিক নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রও সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা, বিশ্ব বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য—এসব প্রশ্ন এখন আর কোনও একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। বিশ্ব রাজনীতির প্রতিটি সংকটের প্রভাব আজ অর্থনীতি থেকে সাধারণ মানুষের জীবন পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

তাই এই সম্মেলনের গুরুত্ব শুধু কতজন রাষ্ট্রনেতা দিল্লিতে এলেন, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আসল প্রশ্ন হল—এই বৈঠকগুলির ফল কতটা বাস্তব সহযোগিতায় পরিণত হবে?

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক অবশ্যই এবারের BRICS-এর সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলির একটি। কিন্তু সেটিকে কেবল ‘বরফ গলা’র ছবি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ভারত-চিন সম্পর্কের সামনে এখনও সীমান্ত, পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতার মতো কঠিন প্রশ্ন রয়েছে। সেই কারণে একটি করমর্দনকে সাফল্যের শেষ ধাপ নয়, বরং একটি সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।

শেষ পর্যন্ত দিল্লির এই কূটনৈতিক ব্যস্ততার সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত একটাই—আজকের বিশ্বে শক্তিশালী রাষ্ট্র হওয়ার অর্থ শুধু সামরিক বা অর্থনৈতিক ক্ষমতা নয়; একই সঙ্গে ভিন্ন মতের দেশগুলির সঙ্গে কথা বলার ক্ষমতা, নিজের স্বার্থ রক্ষা করে সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করার দক্ষতা এবং পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় নিজের জন্য নতুন জায়গা তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

BRICS-এর মঞ্চে ভারত সেই পথেই কতটা এগোতে পারল, তার উত্তর মিলবে আগামী মাস ও বছরগুলিতে। আর যদি প্রশ্ন ওঠে—সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরই কি এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড় চমক?—উত্তর হয়তো ‘হ্যাঁ’। তবে তার থেকেও বড় বিষয় হল, সেই চমককে ভারত বাস্তব কূটনৈতিক সাফল্যে কতটা রূপ দিতে পারে।